সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

দালাই লামার তিব্বতে মুসলমান




মো.আবু রায়হানঃতিব্বত চীনের স্বায়ত্তশাসিত একটি অঞ্চল। মধ্য এশিয়ায় অবস্থিত এ অঞ্চলটি তিব্বতীয় জনগোষ্ঠীর আবাসস্থল। তিব্বতীয় মালভূমির গড় উচ্চতা ১৬,০০০ ফুট; যার কারণে এই অঞ্চলকে পৃথিবীর ছাদও বলা হয়।পশ্চিম চীনে অবস্থিত এই অঞ্চলের উত্তরে চীনের স্বায়ত্তশাসিত এলাকা জিনজিয়াং ও কিংহাই প্রদেশ, পূর্বে সিচুয়ান প্রদেশ, দক্ষিণ-পূর্বে চীনের ইউয়ান ও বার্মা এবং দক্ষিণে ভারত, ভুটান ও নেপাল। ক্ষেত্রফল সুবিশাল- ১২,২৮,৪০০ বর্গ কিলোমিটার অঞ্চল নিয়ে তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল চীনের জিনজিয়াং অঞ্চলের পর দ্বিতীয় সৰ্ববৃহৎ অঞ্চল, এমনকি পার্বত্য এবং দুর্গম পরিবেশের অঞ্চল হওয়ার জন্য চীনের সবচেয়ে কম ঘনবসতিপূর্ণ প্রশাসনিক অঞ্চল। তিব্বতের রাজধানীর নাম লাসা। লাসা ইটালিয়ান শব্দ যার অর্থ ঈশ্বরের স্থান। একইসাথে লাসা পৃথিবীর উচ্চতম শহরগুলোর একটি, সমুদ্র তল থেকে প্রায় ১১,৪৫০ ফুট উঁচুতে। সপ্তদশ শতকের মাঝামাঝি থেকেই লাসা ছিল তিব্বতের রাজধানী। তিব্বতী বৌদ্ধ ধর্মের পবিত্র অনেকগুলো স্থান এখানে অবস্থিত যার মাঝে আছে পোটালা প্রাসাদ, জোখাং মন্দির, নরবুলিংকা প্রাসাদসমূহ ইত্যাদি।নেপালের সাথে তিব্বত সীমান্তে মাউন্ট এভারেস্ট অবস্থিত।শত শত বছরের ঐতিহ্যে লালিত তিব্বতের জনগণের রয়েছে পৃথক ভাষা, ধর্মবিশ্বাস ও আচারপ্রথা। সেই প্রাচীনকাল থেকেই তিব্বতকে ঘিরে প্রচলিত রয়েছে অনেক রহস্য। তিব্বতের রাজধানী লাসা বিশ্বব্যাপী ‘নিষিদ্ধ নগরী’ হিসেবে পরিচিত ছিল অনেক আগে থেকেই। তিব্বত বা লাসায় বাইরের বিশ্ব থেকে কারও প্রবেশ করার আইন না-থাকায় এই অঞ্চলটি দীর্ঘদিন ধরে সবার কাছে একটি রহস্যময় জগৎ হিসেবে পরিচিত ছিল।
১৩৯১ সালে প্রথম দালাইলামার আবির্ভাব ঘটে। ১৯১২ সালে ত্রয়োদশ দালাইলামা কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত একটি স্ব-শাসিত অঞ্চল তিব্বত। মধ্য এশিয়ায় অবস্থিত এ অঞ্চলটি তিব্বতীয় জনগোষ্ঠীর আবাসস্থল। এ অঞ্চলটিকে চীনের অংশ বলা হলেও এখানকার বেশির ভাগ তিব্বতি এ অঞ্চলকে চীনের অংশ মানতে নারাজ। এ নিয়ে রয়েছে বিতর্ক। ১৯৫৯ সালে গণচীনের বিরুদ্ধে তিব্বতিরা স্বাধিকার আন্দোলন করলে, তা ব্যর্থ হয়। তখন দালাইলামার নেতৃত্বে অসংখ্য তিব্বতি ভারত সরকারের আশ্রয় নিয়ে হিমাচল প্রদেশের ধর্মশালায় বসবাস শুরু করেন। সেখানে স্বাধীন তিব্বতের নির্বাসিত সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়। তিব্বতিরা অত্যন্ত ধর্মভীরু হওয়ায় ধর্ম একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। তাদের প্রধান ধর্মগুরুর নাম দালাই লামা। বৌদ্ধ সন্ন্যাসীরা তিব্বতে লামা নামে পরিচিত। লামা শব্দের অর্থ সর্বপ্রধান, আর দালাই শব্দের অর্থ জ্ঞানসমুদ্র। অর্থাৎ দালাইলামা শব্দের অর্থ হচ্ছে জ্ঞানসমুদ্রের সর্বপ্রধান।
লাসা জামে মসজিদ

৭৫ লাখ তিব্বতীর মাঝে ৩০ লাখই বাস করে তিব্বতের বাইরে।এরা বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। তাদের মধ্যে স্বায়ত্তশাসিত এলাকা গানসু, কিংহাই ও সিচুয়ান অঞ্চলে বসবাস করে ২২ লাখের মতো। তা ছাড়া ভারত, নেপাল, ভুটানে বাস করে যথাক্রমে এক লাখ ৮৯ হাজার, ১৬ হাজার ও চার হাজার ৮০০ তিব্বতি। বহির্বিশ্বে আমেরিকা, ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশেও তিব্বতি মানুষ রয়েছে।তিব্বতের জনগণ বহু বছর যাবৎ স্বাধিকারের জন্য লড়াই করলেও পরিশেষে তারা চীনের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। চীনের স্বায়ত্তশাসনের আড়ালে তিব্বতি জনগণের ওপর চলেছে নানা প্রকার নিপীড়ন। ফলে নির্যাতিত মানুষ দেশ ত্যাগ করে ছড়িয়ে পড়ে ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, মঙ্গোলিয়া, ইউরোপ, আমেরিকাসহ দুনিয়ার নানা দেশে। তিব্বতি মানুষের বেশির ভাগই বিশেষ ধরনের বৌদ্ধ ধর্মমতের অনুসারী। সপ্তম শতকে তিব্বতে এই ধর্ম পৌঁছেছিল। দালাইলামা হলেন তিব্বতি বৌদ্ধদের আধ্যাত্মিক প্রধান।মধ্যযুগের মুসলিম ভূগোলবিদ ও ইতিহাসবিশারদের মধ্যে ইবনে খালদুন,তাবারি,ইয়াকুবি, রশিদুদ্দিন, আল-বিরুনি, ইয়াকুত আল-হামাভি প্রমুখের লেখায় তিব্বতের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁরা তিব্বতকে তেহরাত বা খেতাব বলে পরিচয় দিয়েছেন। আরব দেশগুলোর সঙ্গে চীনের সম্পর্ক ইসলামের আগমনের অনেক আগে থেকেই বহাল ছিল। চীনা সওদাগররা তাঁদের পণ্য বেচাকেনার জন্য আরবের বিভিন্ন অঞ্চলে সমুদ্রপথে নিয়ে যেতেন। চীনের এক সূত্র মতে জানা যায়, ৬৫১ সালে আরবের একটি বাণিজ্য প্রতিনিধিদল চীনের ক্যান্টন (বর্তমানে গুয়াংজু) নগরী সফর করেছিল। তখন ইসলামী খেলাফতের কর্ণধার ছিলেন হযরত উসমান ইবনে আফফান (রা.)। মুসলিম ইতিহাসবিদরা বলেন, মুসলমানদের ওই বাণিজ্য কাফেলার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মহানবী (সা.)-এর অন্যতম সাহাবি হযরত সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস (রা.)। তিনি বাণিজ্য কাফেলার সঙ্গে এসে চীনে ইসলাম প্রচারের সুযোগ পান। তাঁর সংস্পর্শে এসে চীনাদের অনেকে ইসলাম ধর্মের দীক্ষা লাভ করে। মুসলমানের ইবাদতের জন্য সাদ (রা.) ক্যান্টনে একটি মসজিদ নির্মাণ করেন।চীনের ৫৫টি সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীর ১০ শতাংশ ইসলামের অনুসারী। এদের মধ্যে রয়েছে উই, উইঘুর, কাজাখ, কিরগিজ, সালার, বাওয়ান (বোনান), দংজিয়াং, উজবেক, তাজিক ও তাতার। তাদের মধ্যে অপেক্ষাকৃত বৃহৎ গোষ্ঠীগুলো হলো হুই, উইঘুর ও কিরগিজ। এরা সংখ্যায় যথাক্রমে এক কোটি পাঁচ লাখ, এক কোটি ও দুই লাখ। বেশির ভাগ হুই জনগোষ্ঠীর বাস চীনের উত্তর ও পশ্চিম অংশের প্রদেশগুলোতে। এসব জনগোষ্ঠীর লোকেরা আরব, মধ্য এশিয়া ও পারস্যের ব্যবসায়ীদের বংশধর। তারা সপ্তম শতাব্দী থেকে চীনে আগমন করে এবং এখানে বসতি স্থাপন করে। হুই সম্প্রদায়ের লোকেরা অনেকে স্থানীয় চীনা নারীদের বিয়ে করার ফলে ক্রমেই তারা চীনা সমাজের সঙ্গে মিশে গেছে। এখন ম্যান্ডারিন বা অন্য কোনো ভাষায় তারা কথা বলে।

তিব্বতের মুসলমানদের সাথে দালাইলামা
খলিফা ওমর বিন আবদুল আজিজের খেলাফতকালে (৭১৭-৭২০) চীন ও তিব্বতে ধর্ম প্রচারের জন্য একটি প্রতিনিধিদল পাঠানোর অনুরোধ পান। তাই তিনি সালেহ বিন আবদুল্লাহ হানাফিকে তিব্বতে প্রেরণ করেন। তিনি সেখানকার মানুষের মধ্যে দ্বিনের দাওয়াত প্রচার করেন। তাই সেই সময় কিছু না কিছু লোক ইসলাম গ্রহণ করে। ফলে এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায় যে অষ্টম শতকের দিকে তিব্বতে ইসলামের আগমন ঘটে।মুহাম্মদ বিন কাসিম অষ্টম শতাব্দীতে সিন্ধু বিজয় করলে তিব্বতের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারিত হয়। আর এই সম্পর্ক ভারত, চীন ও মালয় উপদ্বীপ পেরিয়ে ইসলামী বিশ্বের সঙ্গে যুক্ত হয়। আব্বাসীয় মুসলিম শাসনামলে তিব্বত ও ইসলামী বিশ্বের সঙ্গে কূটনৈতিক, রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বহাল ছিল। ইতিহাস থেকে জানা যায়, অষ্টম শতাব্দীতে তিব্বতের রাজা মুসলিম শাসক খলিফা আল মাহদির (৭৭৫-৭৮৫) কর্তত্ব স্বীকার করে নিয়েছিলেন। ফলে অষ্টম শতাব্দী থেকে তিব্বতের স্বর্ণ মুসলিম বিশ্বে রপ্তানি হয়। এই স্বর্ণ দিয়েই মুসলিম শাসকরা দিনার বা স্বর্ণমুদ্রা তৈরি করতেন।দশম শতাব্দীতে ফারসিতে লিখিত ‘হুদুদ আল-আলম’ গ্রন্থ থেকে জানা যায়, তিব্বতের কেন্দ্রীয় শহর লাসাতে একটি মসজিদ ছিল। যদিও এই শহরে মুসলিম জনসংখ্যা ছিল খুবই কম। একাদশ শতাব্দীর প্রায় শেষ দিকে বাংলার শাসক ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বখতিয়ার খিলজি তিব্বতসহ ওই অঞ্চলের কিছু অংশ অধিকার করেন। বাদাখশান ও কাশ্মীরের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত বাল্টিস্তানসহ তিব্বতের কিছু অংশ পঞ্চদশ শতকের শেষ দিকে এবং ষোড়শ শতকের গোড়ার দিকে মুসলিম সেনাদল জয় করেছিল। এরপর সপ্তদশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে তিব্বত ছিল মঙ্গোল-তুর্কি বংশোদ্ভূত কালমাক শাসকদের অধীনে।তিব্বতি মুসলমানদের বংশধারা মিশ্রিত। তাদের পূর্বপুরুষরা কাশ্মীর, লাখাদ ও মধ্য এশিয়া থেকে তিব্বতে গিয়ে বসতি স্থাপন করে। তারা সেখানকার তিব্বতি মহিলাদের বিয়ে করে। এভাবে মুসলমানরা তিব্বতের সমাজের অংশে পরিণত হয়। তিব্বতীয় মুসলিম, কাছী নামেও পরিচিত। তিব্বতের একটি সংখ্যা লঘু জাতি। মুসলিম হওয়া সত্ত্বেও, চীন সরকারের দ্বারা তারা তিব্বতীয় হিসেবে , যা হুই মুসলিমদের অসদৃশ, তারা আলাদাভাবে স্বীকৃত। আক্ষরিক অর্থে তিব্বতীয় শব্দ কাছী দ্বারা বুঝায় কাশ্মীরী। Muslims have been living in Tibet since as early as the 8th or 9th century. In Tibetan cities, there are small communities of Muslims known as Kachee (Kache), who trace their origin to immigrants from three main regions: Kashmir (Kachee Yul in ancient Tibetan), Ladakh and the Central Asian Turkic countries. Islamic influence in Tibet also came from Persia. After 1959 a group of Tibetan Muslims made a case for Indian nationality based on their historic roots to Kashmir and the Indian government declared all Tibetan Muslims Indian citizens later on that year. Other Muslim ethnic groups who have long inhabited Tibet include Hui, Salar, Dongxiang and Bonan. There is also a well established Chinese Muslim community (gya kachee), which traces its ancestry back to the Hui ethnic group of China. The Balti Tibetans of Baltistan are Shia Muslims.সাধারণ অর্থে, তিব্বতীয় মুসলিমরা এই বিষয়ে স্বতন্ত্র যে তারা পিতৃপরিচয়ের দিক দিয়ে বৃহৎভাবে কাশ্মীরী বংশোদ্ভূত এবং মাতৃপরিচয়ের দিক দিয়ে তারা দেশীয় তিব্বতি সম্প্রদায়ের, যদিও এর বিপরীতটাও অপরিচিত নয়। এইভাবে, তাদেরকে ইন্দো-ইরানীয় এবং আদি দেশীয় তিব্বতি মুখাবয়ব প্রকৃতির মিশ্রণে দেখা যায়।পাকিস্তানের বাল্তিস্থান অঞ্চলের এবং কারগিলের বাল্তি জাতিগোষ্ঠীরা হচ্ছে তিব্বতীয় বৌদ্ধদের বংশধর যাদের বেশীরভাগ শিয়া ইসলাম, কিছু সুন্নি সংখ্যালঘুতে ধর্মান্তরিত হয়। তাদের বাল্তি ভাষা খুবই প্রাচীন এবং রক্ষণশীল এবং তিব্বতি ভাষার অন্যান্য ভাষার তুলনায় অধিক কাছের প্রাচীন তিব্বতীয় ভাষা।
তিব্বতের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ বৌদ্ধ।তিব্বতি জনগোষ্ঠী মহাযান মতে তিব্বতি বৌদ্ধধর্ম চর্চা করে থাকে।২০১২ সালের হিসাব অনুযায়ী তিব্বতী বৌদ্ধধর্ম. ৭৮.৫%. বোন. ১২.৫%. অন্যান্য. ৮.৫৮%. ইসলাম. ০.৪%. ও খ্রিস্টান ০.০২% ।ইতিহাসের পর্যায় অবলোকন করলে দেখা যায়, তিব্বতের বৌদ্ধ নেতারা সাধারণত সহিষ্ণু। সেখানকার মুসলমানদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচিতির প্রতি বৌদ্ধ নেতারা উদার মনোভাব পোষণ করেন। পঞ্চম দালাইলামার (১৬১৭-১৬৮২) শাসনামলে মুসলমানরা ধর্মীয়, আইনগত, শিক্ষা, অর্থনীতি ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে ব্যাপক অধিকার ভোগ করতেন। ধর্মকর্ম পালন, মসজিদ-মাদরাসা নির্মাণ প্রভৃতি ক্ষেত্রে মুসলমানরা ব্যাপক স্বাধীনতা লাভ করেছিলেন। পঞ্চম দালাই লামা একটি মসজিদ ও গোরস্থানের জন্য মুসলমানদের কিছু জমি বরাদ্দ দিয়েছিলেন। মুসলমানরা তাদের ধর্মীয়, আইনগত ও শিক্ষা-সংস্কৃতি বিষয় ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনার জন্য পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করতে পারত। মুসলমানদের অভ্যন্তরীণ বিবাদ-কলহ বা বিরোধ মীমাংসার জন্য তারা নিজস্ব ইসলামী আইনের প্রয়োগ করতে পারত। তারা সরকারের পক্ষ থেকে কর অবকাশও লাভ করেছিল।সরকারের সব অনুষ্ঠানে মুসলিম নেতারা আমন্ত্রিত হতেন। সম্প্রতি চীনা সমাজে মুসলমানদের অধিকার কিছুটা হলেও সীমিত করা হয়েছে। তাদের নানাভাবে পীড়িত করছে সমাজ ও রাষ্ট্র। ধর্মীয় অধিকারের বিষয়টি সরকার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে বলেই মনে হয়। তার পরও মুসলমানরা যতটা সম্ভব নিজেদের ধর্মকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সুফফা ইসলামের প্রথম আবাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

মো.আবু রায়হান:  সুফফা মসজিদে নববির একটি স্থান। যেখানে একদল নিঃস্ব মুহাজির যারা মদিনায় হিজরত করেন এবং বাসস্থানের অভাবে মসজিদে নববির সেই স্থানে থাকতেন।এটি প্রথমদিকে মসজিদ উত্তর-পূর্ব কোণায় ছিল এবং রাসুলের আদেশে এটাকে পাতার ছাউনি দিয়ে ছেয়ে দেয়া হয় তখন থেকে এটি পরিচিতি পায় আল-সুফফা বা আল-জুল্লাহ নামে। ( A Suffah is a room that is covered with palm branches from date trees, which was established next to Al-Masjid al-Nabawi by Islamic prophet Muhammad during the Medina period.)। মোটকথা রাসুল (সা) মসজিদে-নববির চত্ত্বরের এক পাশে আস সুফফা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সুফফা হলো ছাদবিশিষ্ট প্রশস্ত স্থান। সুফফার আকৃতি ছিল অনেকটা মঞ্চের মতো, মূল ভূমির উচ্চতা ছিল প্রায় অর্ধমিটার। প্রাথমিক পর্যায়ে এর দৈর্ঘ্য ছিল ১২ মিটার এবং প্রস্থ ছিল ৮ মিটার। মসজিদে নববির উত্তর-পূর্বাংশে নির্মিত সুফফার দক্ষিণ দিকে ছিল রাসুলুল্লাহ (সা.) ও তাঁর স্ত্রীদের অবস্থানের হুজরা এবং সংলগ্ন পশ্চিম পাশে ছিল মেহরাব।আসহাবে সুফফা অৰ্থ চত্বরবাসী। ঐ সকল মহৎ প্ৰাণ সাহাবি আসহাবে সুফফা নামে পরিচিত, যারা জ্ঞানার্জনের জন্য ভোগবিলাস ত্যা...

খন্দক যুদ্ধ কারণ ও ফলাফল

#মো. আবু রায়হান ইসলামের যুদ্ধগুলোর মধ্যে খন্দকের যুদ্ধ অন্যতম। ৫ হিজরির শাওয়াল মাসে খন্দকের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। নবীজি (সা.) মদিনায় আসার আগে সেখানে বড় দুটি ইহুদি সম্প্রদায় বসবাস করত। বনু নাজির ও বনু কোরায়জা। ইহুদিদের প্ররোচনায় কুরাইশ ও অন্যান্য গোত্র মদিনার মুসলমানদের সঙ্গে যুদ্ধ করার প্রস্তুতি গ্রহণ করে। খন্দকের এই যুদ্ধ ছিল মদিনার ওপরে গোটা আরব সম্প্রদায়ের এক সর্বব্যাপী হামলা এবং কষ্টকর অবরোধের এক দুঃসহ অভিজ্ঞতা। এসময় ২৭দিন ধরে আরব ও ইহুদি গোত্রগুলি মদিনা অবরোধ করে রাখে। পারস্য থেকে আগত সাহাবি সালমান ফারসির পরামর্শে হযরত মুহাম্মদ (স:) মদিনার চারপাশে পরিখা খননের নির্দেশ দেন। প্রাকৃতিকভাবে মদিনাতে যে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছিল তার সাথে এই ব্যবস্থা যুক্ত হয়ে আক্রমণ কারীদেরকে নিষ্ক্রিয় করে ফেলে। জোটবাহিনী মুসলিমদের মিত্র মদিনার ইহুদি বনু কোরায়জা গোত্রকে নিজেদের পক্ষে আনে যাতে তারা দক্ষিণ দিক থেকে শহর আক্রমণ করে। কিন্তু মুসলিমদের তৎপরতার ফলে তাদের জোট ভেঙে যায়। মুসলিমদের সুসংগঠিত অবস্থা, জোটবাহিনীর আত্মবিশ্বাস হ্রাস ও খারাপ আবহাওয়ার কারণে শেষপর্যন্ত আক্রমণ ব্যর্থ হয়।এই যুদ্ধে জয়ের ফলে ইসল...

কাবা ঘর নির্মাণের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

মো. আবু রায়হানঃ কাবা মুসলমানদের কিবলা, অর্থাৎ যে দিকে মুখ করে নামাজ পড়ে বা সালাত আদায় করে, পৃথিবীর যে স্থান থেকে কাবা যে দিকে মুসলমানগণ ঠিক সে দিকে মুখ করে নামাজ আদায় করেন। হজ্জ এবং উমরা পালনের সময় মুসলমানগণ কাবাকে ঘিরে তাওয়াফ বা প্রদক্ষিণ করেন।কাবা শব্দটি এসেছে আরবি শব্দ মুকাআব অর্থ ঘন থেকে।কাবা একটি বড় ঘন আকৃতির ইমারত। (The Kaaba, meaning cube in Arabic, is a square building elegantly draped in a silk and cotton veil.)।যা সৌদি আরবের মক্কা শহরের মসজিদুল হারাম মসজিদের মধ্যখানে অবস্থিত। প্রকৃতপক্ষে মসজিদটি কাবাকে ঘিরেই তৈরি করা হয়েছে।কাবার ভৌগোলিক অবস্থান ২১.৪২২৪৯৩৫° উত্তর ৩৯.৮২৬২০১৩° পূর্ব।পৃথিবীর সর্বপ্রথম ঘর বায়তুল্লাহ বা পবিত্র কাবা ঘর ।আল্লাহ বলেন, নিশ্চয় সর্বপ্রথম ঘর যা মানুষের জন্য নির্মিত হয়েছে তা মক্কা নগরীতে। (সুরা আল ইমরান - ৯৬)। “প্রথম মাসজিদ বায়তুল্লাহিল হারাম তারপর বাইতুল মাকদিস, আর এ দুয়ের মধ্যে সময়ের ব্যবধান হলো চল্লিশ বছরের”।(মুসলিম- ৫২০)। ভৌগোলিকভাবেই গোলাকার পৃথিবীর মধ্যস্থলে কাবার অবস্থান। ইসলামের রাজধানী হিসেবে কাবা একটি সুপরিচিত নাম। পৃথিবীতে মাটির সৃষ্টি ...