সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

কেন রমজান মাসের এতো গুরুত্ব??





#মো. আবু রায়হান
আরবি বারো মাসের নবম তম মাস হলো রমজান। অন্যান্য মাসের চেয়ে রমজান মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত অনেক বেশি।-নবী করিম (দ.) ইরশাদ করেছেন: শা’বান আমার মাস, আর রমজান হলো আল্লাহর মাস’ (মা’সাবাতা বিস্সুন্নাহ) এ মাস এত বেশি মর্যাদাবান হওয়ার বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে -নিন্মোক্ত আলোচনা দ্বারা রমজান মাসের গুরুত্ব সহজে উপলব্ধি করা যেতে পারে।

 এক

এ মাসে কোরআন মজিদ অবতীর্ণ করা হয়েছে, আল্লাহ পাক এরশাদ করেন, রমজান মাস যাতে কোরআন নাজিল করা হয়েছে আর এ কোরআন মানবজাতির জন্য পথের দিশা, সৎপথের সুস্পষ্ট নিদর্শন, হক বাতিলের পার্থক্যকারী। অতএব, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এ মাসটি পাবে সে এতে রোজা রাখবে, যদি সে অসুস্থ হয়ে পড়ে কিংবা সফরে থাকে, সে পরবর্তী সময়ে গু​নে গুনে সেই পরিমাণ দিন পূরণ করে দেবে। আল্লাহ্ তোমাদের জন্য সহজ করতে চান, তোমাদের জন্য কঠিন করতে চান না, যাতে তোমরা গণনা পূরণ করো এবং তোমাদের হিদায়াত দান করার দরুন আল্লাহর মহত্ত্ব বর্ণনার পর কৃতজ্ঞতা স্বীকার করো।(সুরা বাকারা আয়াত ১৮৫ )।শুধু কোরআন নয় অন্যান্য আসমানী কিতাবও একমাসের অবতীর্ণ হয়েছে। হাদিসে বর্ণিত, হযরত ইব্রাহিম (আ.)–এর সহিফা রমজানের ১ তারিখে, তাওরাত রমজানের ৬ তারিখে, জাবুর রমজানের ১২ তারিখে, ইঞ্জিল রমজানের ১৮ তারিখে এবং পবিত্র কুরআন কদরের রাত্রিতে নাজিল হয়েছে।কুরআনের যা আছে পৃথিবীর কোনো গ্রন্থে তা নেই। তাতে রয়েছে জান্নাত, জাহান্নাম, আসমান, জমিন, অন্তরীক্ষ, আরশ, কুরসি, সৃষ্টির কাহিনি, সূর্য, গ্রহ, সৌরজগতের তত্ত্ব, আদম সৃষ্টির রহস্য, ফেরেশতা ও জিনজাতির ইতিহাস, প্রাগৈতিহাসিক নবীদের জীবনচরিত এবং নমরুদ, ফেরাউন, হামান, শাদ্দাদ প্রমুখ কাফিরের ইতিবৃত্ত, আসহাবে কাহাফের অবস্থা, জুলকারনাইনের লৌহ প্রাচীর ইত্যাদির বর্ণনা। । এতে রয়েছে রুহানি জগৎ, পার্থিব জগৎ ও পারলৌকিক জগতের বিস্তারিত বিবরণ। আরো রয়েছে মানুষের ব্যক্তিগত জীবন, পারিবারিক জীবন, সামাজিক জীবন, রাষ্ট্রীয় জীবন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জীবনের সব সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান।
মহানবী (সা.)-এর শ্রেষ্ঠ মোজেজা এ কোরআন মাজিদ। আল্লাহ তাআলা সব নবী-রাসুলকে কম-বেশি অলৌকিক ক্ষমতা প্রদান করেছেন। তবে অন্য নবী-রাসুলের মোজেজার সঙ্গে আমাদের রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর মোজেজার পার্থক্য হলো, তাদের মোজেজা ছিল আমলি। আমলের স্বভাবগত নিয়ম হলো, আমলকারীর ইন্তিকালের সঙ্গে সঙ্গে সব আমল বন্ধ হয়ে যায়। আর এ জন্য আগের নবী-রাসুলদের ইন্তেকালের সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের সব মোজেজাও বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এখন আর হযরত নুহ (আ.)-এর নৌকা নেই, হযরত ইবরাহিম (আ.)-এর মৃত পাখিকে জীবিত করার মোজেজা নেই, হযরত সোলায়মান (আ.)-এর উড়ন্ত আসন নেই। হযরত মুসা (আ.)-এর  লাঠির মোজেজা নেই, হযরত সালেহ (আ.)-এর উট নেই। এভাবে বর্তমানে কোনো নবী-রাসুলের মোজেজাই অবশিষ্ট নেই। পক্ষান্তরে বিশ্বনবী (সা.)-এর শ্রেষ্ঠ মোজেজা কোরআন মজিদের প্রতিটি আয়াত, প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি অক্ষর, এমনকি এর প্রতিটি হরকত তথা জের, যবর, পেশ, তিলাওয়াতপদ্ধতি ইত্যাদি অবিকৃত অবস্থায় পৃথিবীতে বিদ্যমান রয়েছে এবং কিয়ামত পর্যন্ত থাকবে। তাই মহানবী (সা.)-এর মোজেজা জীবন্ত ও চিরন্তন। তার ধ্বংস নেই, ক্ষয় নেই ও লয় নেই। শুধু কাগজে-কলমে নয়, লাখ লাখ হাফেজে কোরআনের সিনায় রক্ষিত আছে এবং কিয়ামত পর্যন্ত তা রক্ষিত থাকবে। এর কারণ হলো, আল্লাহ নিজেই তা সংরক্ষণের দায়িত্ব নিয়েছেন। আল্লাহ বলেন, ‘আমিই কোরআন নাজিল করেছি এবং আমিই তার সংরক্ষণকারী।’ (সুরা : হিজর আয়াত : ৯)কুরআন মজিদ এমন কিতাব, যার কিছু অংশ  পরিমাণ লেখা মানবশক্তির আওতাবহির্ভূত। আল্লাহ তাআলা মানবজাতিকে চ্যালেঞ্জ করে বলেছেন, ‘হে হাবিব! আপনি বলুন, যদি সমস্ত  মানব-দানব সম্মিলিতভাবে এ কোরআনের মতো একটি কিতাব রচনা করতে চেষ্টা করো, তবে এর মতো কিতাব রচনা করতে পারবে না। যদিও তারা পরস্পর একে অন্যের সহায়ক হয়। (সুরা  বনি ইসরাঈল, আয়াত : ৮৮)

দুই

এ মাসে রোজা ফরজ করা হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এ মাস পায়, সে যেন রোজা রাখে।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৮৫)
আল্লাহ তা্লাযা আরো এরশাদ করেন, ‘হে মুমিনরা! তোমাদের ওপর সিয়াম ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের আগের লোকদের ওপর, যাতে তোমরা মুত্তাকি হতে পারো।’(সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৮৩)।
রমজান মাসে মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘মাহে রমজানে প্রতি রাত ও দিনের বেলায় বহু মানুষকে আল্লাহ তায়ালা জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন এবং প্রতিটি রাত ও দিনে প্রত্যেক মুসলিমের দোয়া কবুল করা হয়।’ (মুসনাদে আহমাদ : ২/২৫৪)
রমজান মাসে দোয়া কবুল করা হয়। মহানবী (সা.) ইরশাদ করেন, ‘রমজান মাসে প্রত্যেক মুসলমান আল্লাহর সমীপে যে দোয়া করে থাকে, তা কবুল করা হয়।’ (মুসনাদ আহমাদ : ২/২৫৪)

তিন

এ মাসে  পবিত্র রজনী লাইলাতুল কদর।আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন, ‘আমি একে (কোরআনকে) এক পবিত্র রজনীতে নাজিল করেছি, নিশ্চয়ই আমি সতর্ককারী। এ রাতে প্রতিটি প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয় স্থির হয়।(সুরা : দুখান, আয়াত : ৩-৫)
আল্লাহ তায়ালা আরো এরশাদ করেন, ‘আপনি কি জানেন, মহিমান্বিত রজনী কী? মহিমান্বিত রজনী হলো হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ। এ রাতে ফেরেশতারা ও রুহ তথা জিবরাইল (আ.) অবতীর্ণ হন। প্রত্যেক কাজে তাঁদের রবের অনুমতিক্রমে সালাম সালাম বলে ঘোষণা করেন। আর তা রজনীর ঊষা পর্যন্ত।’ (সুরা : কদর)
লাইলাতুল কদর হচ্ছে একমনে একটি রাত যে রাতে জেগে ইবাদত–বন্দেগি করলে এক হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও উত্তম বলে পবিত্র কোরআনে উল্লেখ রয়েছে। এক হাজার মাসের হিসাব করলে কদরের এক রাতের ইবাদত ৮৬ বছর ৪ মাসের সমান। কিন্তু আল্লাহ্ তাআলা তার চেয়েও বেশি বা উত্তম বলেছেন। যে ব্যক্তি কদরের রাতে সওয়ারের আশায় ইবাদত করবে, তার অতীতের গুনাহসমূহ মাফ করে দেওয়া হবে।
উম্মুল মুমিনিন হজরত আ​য়েশা সিদ্দিকা (রা.) বলেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ (সা.) আমি যদি কদরের রাত্রি পাই, তাহলে আমি কী দোয়া পড়ব? ‘আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুওউন তুহিব্বুল আফওয়া ফাফু আন্নি’ এই দোয়া পড়বে
দেহলভি (রহ.) বলেন, শবেকদর দুটি। একটিতে বিশ্ব প্রশাসনের বিধি-ব্যবস্থা নির্ধারণ করা হয়। এ শবেকদর অনির্দিষ্ট। এক বছর এক রাতে, অন্য বছর অন্য রাতে, এভাবে একেক বছর একেক রাতে হয়ে থাকে। অন্যটি হলো কল্যাণ, বরকত, সওয়াব বা নেক বৃদ্ধি ও ফেরেশতাদের অবতরণ ইত্যাদির জন্য। তা রয়েছে রমজানের শেষ ১০ দিনের বিজোড় রাতগুলোতে। (হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগা )
ওলামা কেরামের মতে শবেকদর হচ্ছে রমজানের ২৭ তারিখের রাত। ইবনে সামেত বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘লাইলাতুল কদর রমজান মাসের শেষ দশ রাতের বিজোড় রাত—২১, ২৩, ২৫, ২৭ ও ২৯তম রাত।

চার

রমজান আল্লাহর মাস -নবী করিম (দ.) ইরশাদ করেছেন: শা’বান আমার মাস, আর রমজান হলো আল্লাহর মাস’ (মা’সাবাতা বিস্সুন্নাহ)। রমজান মাসে রোজা পালন করলে আল্লাহ তায়ালা প্রতিদান ঘোষণা করেছেন এভাবে: ‘মানুষের প্রত্যেক আমলের প্রতিদান বৃদ্ধি করা হয়। একটি নেকীর সওয়াব দশ গুণ থেকে সাতাশ গুণ পর্যন্ত আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, কিন্তু রোজার ব্যাপারটা ভিন্ন। কেননা তা একমাত্র আমার জন্য এবং আমি নিজেই এর বিনিময় প্রদান করব। বান্দা একমাত্র আমার জন্যই নিজের প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করেছে এবং পানাহার পরিত্যাগ করেছে। (সহীহ মুসলিম-১১৫১)।

পাঁচ

এ মাসের ইবাদাতের সওয়াব বহুগুণ।অন্যান্য মাসের তুলনায় এ মাসের ইবাদাতের সওয়াব অনেক বেশি। হাদীসে পাকে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (দ.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি এ মাসে নফল ইবাদাত করলো, সে যেন অন্যমাসের ফরজ ইবাদাত পালন করলো। আর যে এ মাসে একটি ফরজ পালণ করলো, সে যেন অন্যমাসের ৭০টি ফরজ ইবাদাত করলো’। অর্থাৎ- অন্যমাসে একটি ফরজ ইবাদাতে যে সওয়াব, এ মাসে তা নফল দ্বারাই পাওয়া যায়। আর অন্যমাসের ৭০টি ফরজের সওয়াব এ মাসের একটি ফরজ দ্বারা অর্জন করা যায়। (বায়হাকি শুয়াবুল ঈমান)

ছয়

রহমত, মাগফেরাত, নাজাতের মাস।পবিত্র মাহে রমজান একাধারে রহমত, মাগফেরাত ও নাজাতের সুসংবাদ প্রদান করে। এ ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ (দ.) ইরশাদ করেন: ‘রমজান এমন মাস, যার প্রথমাংশে আল্লাহ তাআলার রহমত বর্ষিত হয়। যার ফলে মানুষের জন্য গুনাহের গভীর অন্ধকার থেকে বের হয়ে আসার এবং ইবাদত করে পবিত্র হবার সুযোগ সৃষ্টি হয়। এই মোবারক মাসের মধ্যভাগে পাপ থেকে মুক্তি লাভ হয় এবং শেষাংশে জাহান্নামের যন্ত্রণাদায়ক স্থায়ী আজাব থেকে রেহাই হয়’।
তাই আসুন রমজান মাসে বেশি বেশি কোরআন তেলাওয়াত করি ও রোজা রাখি।রোজা ও কোরআন কিয়ামতের দিন তার জন্য আল্লাহর কাছে সুপারিশ করবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘প্রতিটি মাসেরই রয়েছে স্বতন্ত্র গৌরব ও মর্যাদা, আর মাহে রমজানের গৌরব ও অলংকার হচ্ছে রোজা ও কোরআন। এ দুইয়ের হক আদায়কারীদের জন্য রোজ হাশরে রোজা ও কোরআন আল্লাহর দরবারে শাফায়াত করবে। রোজা বলবে, ‘হে আমার রব! আমি তাকে দিনে পানাহার ও অশ্লীলতা থেকে বিরত রেখেছি, আমার তরফ থেকে তার জন্য শাফায়াত কবুল করুন।’ কোরআন বলবে, ‘হে আমার রব! আমি তাকে রাতে নিদ্রা থেকে বিরত রেখেছি, আমার তরফ থেকে তার জন্য শাফায়াত কবুল করুন।’ আল্লাহ তাদের সুপারিশ কবুল করবেন।’ (বায়হাকি )

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সুফফা ইসলামের প্রথম আবাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

মো.আবু রায়হান:  সুফফা মসজিদে নববির একটি স্থান। যেখানে একদল নিঃস্ব মুহাজির যারা মদিনায় হিজরত করেন এবং বাসস্থানের অভাবে মসজিদে নববির সেই স্থানে থাকতেন।এটি প্রথমদিকে মসজিদ উত্তর-পূর্ব কোণায় ছিল এবং রাসুলের আদেশে এটাকে পাতার ছাউনি দিয়ে ছেয়ে দেয়া হয় তখন থেকে এটি পরিচিতি পায় আল-সুফফা বা আল-জুল্লাহ নামে। ( A Suffah is a room that is covered with palm branches from date trees, which was established next to Al-Masjid al-Nabawi by Islamic prophet Muhammad during the Medina period.)। মোটকথা রাসুল (সা) মসজিদে-নববির চত্ত্বরের এক পাশে আস সুফফা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সুফফা হলো ছাদবিশিষ্ট প্রশস্ত স্থান। সুফফার আকৃতি ছিল অনেকটা মঞ্চের মতো, মূল ভূমির উচ্চতা ছিল প্রায় অর্ধমিটার। প্রাথমিক পর্যায়ে এর দৈর্ঘ্য ছিল ১২ মিটার এবং প্রস্থ ছিল ৮ মিটার। মসজিদে নববির উত্তর-পূর্বাংশে নির্মিত সুফফার দক্ষিণ দিকে ছিল রাসুলুল্লাহ (সা.) ও তাঁর স্ত্রীদের অবস্থানের হুজরা এবং সংলগ্ন পশ্চিম পাশে ছিল মেহরাব।আসহাবে সুফফা অৰ্থ চত্বরবাসী। ঐ সকল মহৎ প্ৰাণ সাহাবি আসহাবে সুফফা নামে পরিচিত, যারা জ্ঞানার্জনের জন্য ভোগবিলাস ত্যা...

খন্দক যুদ্ধ কারণ ও ফলাফল

#মো. আবু রায়হান ইসলামের যুদ্ধগুলোর মধ্যে খন্দকের যুদ্ধ অন্যতম। ৫ হিজরির শাওয়াল মাসে খন্দকের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। নবীজি (সা.) মদিনায় আসার আগে সেখানে বড় দুটি ইহুদি সম্প্রদায় বসবাস করত। বনু নাজির ও বনু কোরায়জা। ইহুদিদের প্ররোচনায় কুরাইশ ও অন্যান্য গোত্র মদিনার মুসলমানদের সঙ্গে যুদ্ধ করার প্রস্তুতি গ্রহণ করে। খন্দকের এই যুদ্ধ ছিল মদিনার ওপরে গোটা আরব সম্প্রদায়ের এক সর্বব্যাপী হামলা এবং কষ্টকর অবরোধের এক দুঃসহ অভিজ্ঞতা। এসময় ২৭দিন ধরে আরব ও ইহুদি গোত্রগুলি মদিনা অবরোধ করে রাখে। পারস্য থেকে আগত সাহাবি সালমান ফারসির পরামর্শে হযরত মুহাম্মদ (স:) মদিনার চারপাশে পরিখা খননের নির্দেশ দেন। প্রাকৃতিকভাবে মদিনাতে যে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছিল তার সাথে এই ব্যবস্থা যুক্ত হয়ে আক্রমণ কারীদেরকে নিষ্ক্রিয় করে ফেলে। জোটবাহিনী মুসলিমদের মিত্র মদিনার ইহুদি বনু কোরায়জা গোত্রকে নিজেদের পক্ষে আনে যাতে তারা দক্ষিণ দিক থেকে শহর আক্রমণ করে। কিন্তু মুসলিমদের তৎপরতার ফলে তাদের জোট ভেঙে যায়। মুসলিমদের সুসংগঠিত অবস্থা, জোটবাহিনীর আত্মবিশ্বাস হ্রাস ও খারাপ আবহাওয়ার কারণে শেষপর্যন্ত আক্রমণ ব্যর্থ হয়।এই যুদ্ধে জয়ের ফলে ইসল...

কাবা ঘর নির্মাণের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

মো. আবু রায়হানঃ কাবা মুসলমানদের কিবলা, অর্থাৎ যে দিকে মুখ করে নামাজ পড়ে বা সালাত আদায় করে, পৃথিবীর যে স্থান থেকে কাবা যে দিকে মুসলমানগণ ঠিক সে দিকে মুখ করে নামাজ আদায় করেন। হজ্জ এবং উমরা পালনের সময় মুসলমানগণ কাবাকে ঘিরে তাওয়াফ বা প্রদক্ষিণ করেন।কাবা শব্দটি এসেছে আরবি শব্দ মুকাআব অর্থ ঘন থেকে।কাবা একটি বড় ঘন আকৃতির ইমারত। (The Kaaba, meaning cube in Arabic, is a square building elegantly draped in a silk and cotton veil.)।যা সৌদি আরবের মক্কা শহরের মসজিদুল হারাম মসজিদের মধ্যখানে অবস্থিত। প্রকৃতপক্ষে মসজিদটি কাবাকে ঘিরেই তৈরি করা হয়েছে।কাবার ভৌগোলিক অবস্থান ২১.৪২২৪৯৩৫° উত্তর ৩৯.৮২৬২০১৩° পূর্ব।পৃথিবীর সর্বপ্রথম ঘর বায়তুল্লাহ বা পবিত্র কাবা ঘর ।আল্লাহ বলেন, নিশ্চয় সর্বপ্রথম ঘর যা মানুষের জন্য নির্মিত হয়েছে তা মক্কা নগরীতে। (সুরা আল ইমরান - ৯৬)। “প্রথম মাসজিদ বায়তুল্লাহিল হারাম তারপর বাইতুল মাকদিস, আর এ দুয়ের মধ্যে সময়ের ব্যবধান হলো চল্লিশ বছরের”।(মুসলিম- ৫২০)। ভৌগোলিকভাবেই গোলাকার পৃথিবীর মধ্যস্থলে কাবার অবস্থান। ইসলামের রাজধানী হিসেবে কাবা একটি সুপরিচিত নাম। পৃথিবীতে মাটির সৃষ্টি ...