সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

ইস্তাম্বুল থেকে মদিনা: উসমানীয় সাম্রাজ্যের শেষ খলিফা আবদুল মজিদ দ্বিতীয়-এর করুণ প্রস্থান

ইতিহাসের পাতায় কিছু সমাপ্তি কেবল একটি অধ্যায়ের শেষ নয়, বরং তা এক গভীর ট্র্যাজেডির জন্ম দেয়। ২৩ আগস্ট—উসমানীয় রাজবংশের শেষ খলিফা দ্বিতীয় আবদুল মজিদ (Caliph Abdul Majid II) -এর জীবনের এক মর্মস্পর্শী ও বেদনাবিধূর অধ্যায়কে স্মরণ করার দিন। খেলাফতের পতন এবং উসমানীয় রাজবংশের তুরস্ক থেকে নির্বাসনের পর তাঁর জীবন কীভাবে এক নিদারুণ নিঃসঙ্গতায় পর্যবসিত হয়েছিল, এটি তারই এক ঐতিহাসিক দলিল। ১. নির্বাসিত জীবন ও প্যারিসের নিঃসঙ্গ মৃত্যু তুর্কি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর যখন উসমানীয় খেলাফত বিলুপ্ত করা হয়, তখন রাজপরিবারের অন্য সদস্যদের মতো আবদুল মজিদ দ্বিতীয়কেও দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়। তিনি ফ্রান্সে গিয়ে আশ্রয় নেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যখন জার্মানি ফ্রান্স দখল করে নেয়, তখন চরম দুর্দিনে প্যারিসের এক ফ্ল্যাটে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর তাঁর মরদেহ এতটাই অসহায় অবস্থায় পড়ে ছিল যে, বেশ কয়েক দিন ধরে তা ফ্ল্যাটেই রাখা ছিল। পরবর্তীতে প্রতিবেশীদের সন্দেহ হওয়ায় বিষয়টি জানাজানি হয় এবং তাঁর মরদেহ প্যারিস মসজিদে নিয়ে গিয়ে হিমঘরে (frozen storage) রাখা হয়। ২. অপূর্ণ ইচ্ছে ও শেষ ঠিকানার সন্ধান আবদুল মজিদ জীবনের ...

বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ে কেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নেই?


কিছুদিন আগে টাইমস হায়ার এডুকেশন' নামের লন্ডনভিত্তিক একটি ম্যাগাজিন এশিয়ার সেরা ৪১৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। সেই তালিকায় বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয় নেই। ঢাবি এই তালিকায় না থাকায় তা নিয়ে চলছে বিভিন্ন মহলে প্রবল সমালোচনা ও মন্তব্য। যেখানে শিক্ষকসহ রাজনীতিবীদ পর্যন্ত সমালোচনায় যুক্ত হয়েছেন। এ তালিকাসহ বিভিন্ন সময়ের তালিকায় ঢাবির নাম না থাকার কারণ জানার চেষ্টা করব এ লেখায়। বিভিন্ন জনের লেখায় ও বক্তব্যে এ কারণ গুলো উঠে এসেছে। বাংলাদেশে এখন ৪৩টি পাবলিক এবং ১০৩টি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে৷ এর বাইরে আরো ৪টি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি আছে৷ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশে সব মিলিয়ে এখন বিশ্বদ্যিালয়ের সংখ্যা ১৫০টি৷
টাইমস হায়ার এডুকেশন' এর এই তালিকা তৈরিতে তারা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পাঠদান, গবেষণা, জ্ঞান আদান-প্রদান এবং আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গি- এই চারটি মৌলিক বিষয়কে প্রাধান্য দিয়েছে৷ আর তাদের এই তালিকায় এশিয়ার সেরা বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে চীনের সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম উঠে এসেছে৷ দ্বিতীয় সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুর এবং তৃতীয় অবস্থানে আছে হংকং ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি৷ তালিকায় চীনের ৭২টি, ভারতের ৪৯টি, তাইওয়ানের ৩২টি, পাকিস্তানের ৯টি এবং হংকংয়ের ৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম আছে৷ এমনকি নেপাল ও শ্রীলঙ্কার বিশ্ববিদ্যালয়ও আছে এই তালিকায়৷ শুধু নেই বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম।
নাম না থাকা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে হাস্যরসের জন্ম দিয়েছেন ঢাবির একজন শিক্ষক। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্য অনুষদের ডিন প্রফেসর শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম অভিযোগের সুরে বলেন -
বিশ্ববিদ্যালয়ের মান জরিপ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানকে অর্থ না দেয়ায় এশিয়ার সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) নাম আসেনি।আরো বলেন, লন্ডন ভিত্তিক যে প্রতিষ্ঠানটি এই জরিপ পরিচালনা করেছে সেই সংস্থাটির প্রস্তাব অনুযায়ী সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকাভুক্ত হতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে ৪৫ হাজার পাউন্ড দাবি করা হয়েছিলো এবং বাৎসরিক আরেও ১৫ হাজার পাউন্ড পরিশোধের প্রস্তাব দিলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই অর্থ র‌্যাঙ্কিংয়ের জন্য ব্যয় না করে, শিক্ষা ও গবেষণা খাতে ব্যয় করতে বেশি আগ্রহী হওয়াতে সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় নাম আসেনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের।
এদিকের ডিনের বক্তব্য পরিষ্কার করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান বলেছেন, র‍্যাঙ্কিংকারী একটি সংস্থার একজন প্রতিনিধি তাঁদের বলেছেন, প্রয়োজনীয় তথ্য দিলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় র‍্যাঙ্কিংয়ের আওতাভুক্ত হবে।ভিসি আশার বাণী শোনালেও বসে নেই রাজনীতিবিদরা নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতা আবদুল মঈন খান র‍্যাঙ্কিংয়ে না থাকার সুনির্দিষ্ট কিছু কারণ উল্লেখ করছেন। মোটকথা ঢাবি যে খুব একটা ভালো পজিশনে নেই তা রাজনীতিবিদ, বুদ্ধিজীবী ও শিক্ষকদের প্রতিক্রিয়ায় স্পষ্ট।
এখন আসি তালিকায় নাম আসার ক্ষেত্রে জরিপ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের মানদন্ড কী?
কুয়াকুয়ারেলি সাইমন্ডস (কিউএস) প্রতি বছর ১১টি আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের ভিত্তিতে বিশ্বের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর র‌্যাঙ্কিং প্রকাশ করে থাকে। এ ১১টি মানদণ্ডের মধ্যে রয়েছে : প্রাতিষ্ঠানিক সাফল্য, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাফল্য, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সাফল্য, আন্তর্জাতিক গবেষণা নেটওয়ার্ক, গবেষণা প্রবন্ধের সাইটেশন, পিএইচডি ডিগ্রিধারী শিক্ষক-কর্মকর্তার সংখ্যা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অনুপাত, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শিক্ষার্থী বিনিময়ের হার।
এছাড়া আরো কিছু ফ্যাক্টর বিশ্ববিদ্যালয়ের র‌্যাংকিং তৈরীতে ভূমিকা রাখে। তার মধ্যে অন্যতম হলো– শিক্ষাক্ষেত্রে সুনাম, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রিপ্রাপ্ত ছাত্রদের কর্মক্ষেত্রে সুনাম, দেশি-বিদেশি শিক্ষকদের অনুপাত এবং দেশি-বিদেশি ছাত্রদের অনুপাত। মূলত প্রাতিষ্ঠানিক খ্যাতি, শিক্ষক ও কর্মচারীদের দক্ষতা, শিক্ষক-ছাত্রের অনুপাত, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিভাগীয় কৃতিত্ব তথা গবেষণা এবং আন্তর্জাতিক পর্যালোচনার ভিত্তিতে জরিপ প্রতিবেদন প্রকাশ করে প্রতিষ্ঠানগুলো।
ঢাবির তালিকায় না থাকা এবং থাকলেও পশ্চাতে থাকা নিয়ে কারণ অনুসন্ধান করে যা জানা যায়। নষ্ট ছাত্র-শিক্ষক রাজনীতি, শিক্ষকের 'দলবাজি', সাদা-নীল-গোলাপীতে বিভক্তি, শিক্ষক নিয়োগে রাজনৈতিক বিবেচনার কারণে। ঢাকার একটি দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, আআমস আরেফিন সিদ্দিক উপাচার্য থাকাকালীন সময়ে ৮ বছরে ৯০৭ জন শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে শেষ ৩ বছরে নিয়োগ পেয়েছেন ৩৫০ জন। শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল করে এবং যোগ্য প্রার্থীদের বাদ দিয়ে নিয়োগ দেয়া হয়েছে অন্তত ৭৮ জন এবং ন্যূনতম যোগ্যতা পূরণ না করেই দুই বিভাগে নিয়োগ পেয়েছেন ১০ জন। এছাড়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত সংখ্যার চেয়ে দুই বা ততোধিক সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার ঘটনা ঘটেছে ৪১ জনের ক্ষেত্রে ।স্নাতকোত্তর ছাড়া নিয়োগ পেয়েছেন অন্তত ৩ জন।
শিক্ষার্থীদের হলে থাকতে  সিট পেতে রাজনৈতিক সমর্থন ফলে তারা গণরুমে থাকতে বাধ্য হন৷ঢাবি বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ে প্রায় অনুপস্থিত থাকার অন্যতম কারণ হচ্ছে গবেষণার হার কম থাকা, শিক্ষার সুনাম ক্রমাগত কমতে থাকা ও সনদ-নির্ভর গ্র্যাজুয়েটদের দক্ষতা শূন্যের কোঠায় পৌঁছে যাওয়া। বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার ক্ষেত্রে মূলত শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা জড়িত থাকেন। কিন্তু দিন দিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণার হার ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে। এর প্রধান কারণ হচ্ছে পর্যাপ্ত অর্থের অপ্রতুলতা, অনুকূল পরিবেশের অভাব, অবকাঠামোসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার অভাব ইত্যাদি। তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার উৎকর্ষের চেয়ে প্রশাসনিক দিককেই বেশি গুরুত্ব প্রদান, কিছু শিক্ষকের শিক্ষা বিমুখতা ও শিক্ষকতার চেয়ে রাজনৈতিক গ্রুপিং-লবিং, দলকানা দলদাসের রাজনীতিতে সময় বেশি দেওয়া।  বিশ্ববিদ্যালয়গুলো টিচিং ইউনিভার্সিটিতে পরিণত হয়েছে৷ শুধু পড়াচ্ছে৷ টার্গেট হলো শুধু বিসিএস ক্যাডার।সরকারি চাকরি৷ বিশ্ববিদ্যালয় কি সরকারি চাকরিজীবী বানাবার কারখানা? এটা কি ট্রেনিং সেন্টার? বিশ্ববিদ্যালয় হলো জ্ঞান চর্চা এবং নতুন জ্ঞানের সন্নিবেশ ও উদ্ভাবন করার জায়গা৷ তা কিন্তু একদমই হচ্ছে না৷ ৷
ঢাবির গবেষণা খাতে অর্থের অপর্যাপ্ততা ও অর্থের সঠিক ব্যবহার না হওয়া নিয়েও রয়েছে সমালোচনা। ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে গবেষণা খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ পেয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। প্রাচীন এ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি চলতি অর্থবছরে গবেষণায় বরাদ্দ পেয়েছে ১৫ কোটি টাকা। এরমধ্যে গবেষণা প্রকল্প বাবদ ১৪ কোটি ও বিশেষ বরাদ্দ পেয়েছে ১ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের বিশ্ববিদ্যালয়টির গবেষণা খাতে বরাদ্দ ছিল ১৪ কোটি টাকা। বছর শেষে হিসাব করে দেখা গেছে, খাতটিতে ব্যয় হয়েছে ৮ কোটি ৪২ টাকা।  সে হিসাবে গবেষণা খাতে বরাদ্দকৃত অর্থের ৪০ শতাংশই ব্যয় করতে পারেনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জন্য ৬৬৪ কোটি ৩৭ লাখ টাকার বাজেট প্রস্তাব করা হয়। বাজেটে গবেষণা খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে মাত্র ১৪ কোটি টাকা। হিসাবে এটি মোট বাজেটের মাত্র ২ শতাংশ
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বছরের যে বাজেট, তা আমাদের সবগুলো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ বছরের বাজেটের চেয়েও বেশি৷ জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক গবেষণা সংক্রান্ত ব্যয় ২.৩১ বিলিয়ন ডলার যা বাংলাদেশি টাকায় ১৯ হাজার ১৭৩ কোটি টাকা, মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক গবেষণা ব্যয় ১১ হাজার ৩৭১ কোটি টাকা, ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ে ৯ হাজার ৭৯৪ কোটি টাকা। ডিউক, স্টানফোর্ড ও হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা খাতে বার্ষিক ব্যয় যথাক্রমে– ৮ হাজার ৬৩২ কোটি, ৮ হাজার ৪৬৬ কোটি এবং ৮ হাজার ৩৮৩ কোটি টাকা।
শুধু মাত্র একাডেমিক সাফল্যের উপর ভিত্তি করে URAP( university ranking by academic performance) প্রকাশ করে। URAP এর ২০১৮-২০১৯ তালিকা বাংলাদেশের জন্য আরও বেশি চমকপ্রদ। একাডেমিক দিক থেকে আমাদের কোন বিশ্ববিদ্যালয় শ্রেষ্ঠ ১৫০০ এর মধ্যে ই নেই।অথচ  “URAP 1500”তে ভারতের ৪৬ টি আর পাকিস্তানের ৮ টি বিশ্ববিদ্যালয় আছে।
QS World University Ranking” অনুযায়ী শ্রেষ্ঠ ১০০০ বিশ্ববিদ্যালয় তালিকার মধ্যে আমাদের দেশের দুটি বিশ্ববিদ্যালয় আছে । “বুয়েট” আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।যদি ও দুইটি ই শ্রেষ্ঠ ৮০০ এর বাইরে।আমরা যদি ভারতের দিকে তাকাই তাহলে দেখতে পাই টপ ১০০০ এর মধ্যে তাদের ২৪ টি বিশ্ববিদ্যালয় আছে আর টপ ৫০০ তে আছে ৯ টি।পাকিস্তানের দিকে তাকালে টপ ১০০০ এ তাদের ৭ টি বিশ্ববিদ্যালয় আছে।
যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ শিক্ষার গুনগত মান নিশ্চিত করে ঢাবির হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনা সময়ের দাবী। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবয়ব মুক্ত বাক স্বাধীনতা টিকে থাকলে জাতির টিকে থাকা সহজ হয়। উন্নয়নের মহাসড়কে যুক্ত হতে হলে বাংলাদেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান ও পরিবেশ রক্ষায় আশু পদক্ষেপ অপরিহার্য।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

যে গাছ ইহুদিদের আশ্রয় দেবে অর্থাৎ ইহুদিদের বন্ধু গাছ

মো.আবু রায়হান: কিয়ামত সংঘটিত হবার   পূর্বে হযরত ঈসা (আ.) এর সঙ্গে দাজ্জালের জেরুজালেমে যুদ্ধ হবে। সেই যুদ্ধে ইহুদিরা দাজ্জালের পক্ষাবলম্বন করবে। হযরত ঈসা (আ.) দাজ্জালকে হত্যা করবেন।এদিকে   ইহুদিরা প্রাণ ভয়ে পালাতে চেষ্টা করবে।   আশেপাশের গাছ ও পাথর/ দেয়ালে আশ্রয় নেবে। সেদিন গারকাদ নামক একটি গাছ ইহুদিদের আশ্রয় দেবে। গারকাদ ইহুদীবান্ধব গাছ।গারকাদ একটি আরবি শব্দ। এর অর্থ হল কাটাওয়ালা ঝোঁপ।গারকাদ এর ইংরেজী প্রতিশব্দ Boxthorn । Box এর অর্থ সবুজ ঝোঁপ এবং thorn এর অর্থ কাঁটা। এ ধরনের গাছ বক্সথর্ন হিসেবেই পরিচিত। এই গাছ চেরি গাছের মতো এবং চেরি ফলের মতো লাল ফলে গাছটি শোভিত থাকে।   ইসরায়েলের সর্বত্র বিশেষত অধিকৃত গাজা ভূখন্ডে গারকাদ গাছ ব্যাপকহারে   দেখতে পাওয়া যায়।ইহুদিরা কোথাও পালাবার স্থান পাবে না। গাছের আড়ালে পালানোর চেষ্টা করলে গাছ বলবে , হে মুসলিম! আসো , আমার পিছনে একজন ইহুদী লুকিয়ে আছে। আসো এবং তাকে হত্যা কর। পাথর বা দেয়ালের পিছনে পলায়ন করলে পাথর বা দেয়াল বলবে , হে মুসলিম! আমার পিছনে একজন ইহুদী লুকিয়ে আছে , আসো! তাকে হত্যা কর। তবে গারকাদ নামক গাছ ইহুদ...

সুফফা ইসলামের প্রথম আবাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

মো.আবু রায়হান:  সুফফা মসজিদে নববির একটি স্থান। যেখানে একদল নিঃস্ব মুহাজির যারা মদিনায় হিজরত করেন এবং বাসস্থানের অভাবে মসজিদে নববির সেই স্থানে থাকতেন।এটি প্রথমদিকে মসজিদ উত্তর-পূর্ব কোণায় ছিল এবং রাসুলের আদেশে এটাকে পাতার ছাউনি দিয়ে ছেয়ে দেয়া হয় তখন থেকে এটি পরিচিতি পায় আল-সুফফা বা আল-জুল্লাহ নামে। ( A Suffah is a room that is covered with palm branches from date trees, which was established next to Al-Masjid al-Nabawi by Islamic prophet Muhammad during the Medina period.)। মোটকথা রাসুল (সা) মসজিদে-নববির চত্ত্বরের এক পাশে আস সুফফা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সুফফা হলো ছাদবিশিষ্ট প্রশস্ত স্থান। সুফফার আকৃতি ছিল অনেকটা মঞ্চের মতো, মূল ভূমির উচ্চতা ছিল প্রায় অর্ধমিটার। প্রাথমিক পর্যায়ে এর দৈর্ঘ্য ছিল ১২ মিটার এবং প্রস্থ ছিল ৮ মিটার। মসজিদে নববির উত্তর-পূর্বাংশে নির্মিত সুফফার দক্ষিণ দিকে ছিল রাসুলুল্লাহ (সা.) ও তাঁর স্ত্রীদের অবস্থানের হুজরা এবং সংলগ্ন পশ্চিম পাশে ছিল মেহরাব।আসহাবে সুফফা অৰ্থ চত্বরবাসী। ঐ সকল মহৎ প্ৰাণ সাহাবি আসহাবে সুফফা নামে পরিচিত, যারা জ্ঞানার্জনের জন্য ভোগবিলাস ত্যা...

খন্দক যুদ্ধ কারণ ও ফলাফল

#মো. আবু রায়হান ইসলামের যুদ্ধগুলোর মধ্যে খন্দকের যুদ্ধ অন্যতম। ৫ হিজরির শাওয়াল মাসে খন্দকের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। নবীজি (সা.) মদিনায় আসার আগে সেখানে বড় দুটি ইহুদি সম্প্রদায় বসবাস করত। বনু নাজির ও বনু কোরায়জা। ইহুদিদের প্ররোচনায় কুরাইশ ও অন্যান্য গোত্র মদিনার মুসলমানদের সঙ্গে যুদ্ধ করার প্রস্তুতি গ্রহণ করে। খন্দকের এই যুদ্ধ ছিল মদিনার ওপরে গোটা আরব সম্প্রদায়ের এক সর্বব্যাপী হামলা এবং কষ্টকর অবরোধের এক দুঃসহ অভিজ্ঞতা। এসময় ২৭দিন ধরে আরব ও ইহুদি গোত্রগুলি মদিনা অবরোধ করে রাখে। পারস্য থেকে আগত সাহাবি সালমান ফারসির পরামর্শে হযরত মুহাম্মদ (স:) মদিনার চারপাশে পরিখা খননের নির্দেশ দেন। প্রাকৃতিকভাবে মদিনাতে যে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছিল তার সাথে এই ব্যবস্থা যুক্ত হয়ে আক্রমণ কারীদেরকে নিষ্ক্রিয় করে ফেলে। জোটবাহিনী মুসলিমদের মিত্র মদিনার ইহুদি বনু কোরায়জা গোত্রকে নিজেদের পক্ষে আনে যাতে তারা দক্ষিণ দিক থেকে শহর আক্রমণ করে। কিন্তু মুসলিমদের তৎপরতার ফলে তাদের জোট ভেঙে যায়। মুসলিমদের সুসংগঠিত অবস্থা, জোটবাহিনীর আত্মবিশ্বাস হ্রাস ও খারাপ আবহাওয়ার কারণে শেষপর্যন্ত আক্রমণ ব্যর্থ হয়।এই যুদ্ধে জয়ের ফলে ইসল...